সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রফেসর মো. শাহাদত হোসেন।
(সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি) বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বেতার সংগঠক প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ৩১তম অধ্যক্ষ হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব শাহিনা পারভীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রফেসর মো. শাহাদত হোসেন কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজে ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। উল্লেখ্য, প্রফেসর মো. শাহাদত হোসেন ১৯৬৭ সালে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সরিষাকান্দা ইসলামপুর গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করার পর ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোহনগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তি হন। সপ্তম শ্রেণি থেকে তিনি ঢাকাস্থ রামপুরা একরামুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। এসএসসি পাশ করার পর তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কলেজ ঢাকা কলেজে ভর্তি হন এবং প্রথম বিভাগ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেন। অতঃপর জনাব মো. শাহাদত হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে ভর্তি হন এবং এখান থেকেই অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করেন। লেখাপড়া শেষ করে ১৯৯৫ সালে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এনজিও হেলেন কেলারে যোগদান করেন। এক বছরেরও কম সময় চাকুরি করেন।
এর পর তিনি সুনামগঞ্জ মহিলা কলেজে শিক্ষকতায় যোগ দান করেন। কর্মজীবনে প্রফেসর মো. শাহাদত হোসেন সুনামগঞ্জ, নওগাঁ ও কিশোরগঞ্জ জেলায় চাকুরি করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। উল্লেখ্য, সরকারি চাকুরি করলেও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় তিনি নিজ জেলা সুনামগঞ্জ ও নিজ উপজেলা ধর্মপাশায় খুবই সুপরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ডিগ্রী কোর্স চালুর বিষয়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া প্রফেসর মো. শাহাদত হোসেন একজন লেখক হিসেবেও সুপরিচিত। হাওর ও শিক্ষা নিয়ে তাঁর অনেক লেখা স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি একজন বিখ্যাত ডিএক্সার। বিশ্বের অন্তত ৫০ টি দেশের পাঁচ শতাধিক কিউএসএল কার্ড তার সংগ্রহের রয়েছে। তাছাড়া বিবিসি, ডয়চে ভেলে, এনএইইচকে রেডিও জাপান, আইআরআইবি রেডিও তেহরান, রেডিও তাইওয়ান ইন্টারন্যাশনাল প্রভৃতি বেতার কেন্দ্রের মনিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একজন সংগঠকও। একাধিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে দেশের বৃহত্তম শ্রোতা সংগঠন এসোসিয়েশন অব রেডিও লিসেনার্স ক্লাব বাংলাদেশ’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদোন্নতি লাভ করায় ও যোগদান করায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দান করেছেন বিশিষ্ট কবি-কলামিস্ট, সাংবাদিক পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য, স্বাধীন বাংলা বেতার শ্রোতা সংসদ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম মনিরুজ্জামান আকাশ। তিনি বলেন, প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন একজন শিক্ষাবিদ ও বেতার সংগঠক, তিনি সারা বাংলাদেশের শ্রোতাদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব রেডিও লিসেনার্স ক্লাব এর সভাপতি। তিনি সারা বাংলাদেশে বেতার শ্রোতাদের মাথার মুকুট নয়নের মনি। আমি বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও বেতার শ্রোতা সংগঠকের সাফল্যে গর্বিত ও তৃপ্ত। তিনি আরো বলেন, প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন স্যারকে আল্লাহ তায়ালা নেক হায়াত ও সুস্থতার সহিত তার উপর অর্পিত দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করার তৌফিক দান করুন। বেতার শ্রোতা বন্ধুদের সঠিক ভাবে দিক নির্দেশনা দান করতে সদা আন্তরিক থাকবেন এই প্রার্থনা করি মহান মাবুদের দরবারে।
এছাড়াও আরো অনেকেই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দান করেছেন। ইয়াকুব আলী সরকার, আব্দুল হান্নান শেখ (নাটোর), মোবারক হোসেন ফনি(টাঙ্গাইল), জামাল আহমেদ সুবর্ণ(ফরিদপুর), রাশেল শিকদার, আমিরুল ইসলাম রানা(গাইবান্ধা), মেহেদী হাসান মামুন(চট্টগ্রাম), রোটারিয়ান চাঁন মিয়া, রহমাতুল্লা সরকার, ফয়সাল আহমেদ শিপন, ইয়াসিন উল্লাহ শিশির, সম্রাট এম.ডি ফারুক মোগল, জুবায়ের আল ফাহাদ, গোপীনাথ পাল(রাজবাড়ী) , জিএম বাহারুল ইসলাম(সাতক্ষীরা), হাফিজুর রহমান সায়মন(জামালপুর) , আব্দুল্লাহ আল মামুন(মানিকগঞ্জ), আক্তারুজ্জামান, ফাতেমাতুজ্জোহরা(ধর্মপাশা), বিশ্বনাথ দাস বিশু(দিনাজপুর), এম জামাল সহ আরো অনেকে।