ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ওয়াকফ এস্টেটের জমি দখলে বাধা দেওয়ায় হামলা।
এম বাদল খন্দকার ( জেলা প্রতিনিধি)ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ওয়াকফ এস্টেট ও মসজিদের জায়গা অবৈধভাবে দখল এবং বিনা অনুমতিতে ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদ করায় মসজিদ কমিটির দুই নেতার উপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে দখলদাররা। দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তাদের গুরুতর জখম করা হয়েছে। এসময় নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের পশ্চিম পাইকপাড়া এলাকার আব্দুল আলিম ওয়াকফ এস্টেট প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, আব্দুল আলিম পশ্চিম পাইকপাড়া জামে মসজিদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম এবং আব্দুল আলিম ওয়াকফ এস্টেটের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন। এ ঘটনায় আহত জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন: পশ্চিম পাইকপাড়া এলাকার আল মামুন সরকার, শফিক, পশ্চিম মেড্ডা এলাকার টিটু মিয়া এবং উত্তর পৈরতলার হেলাল।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর রাত থেকে ১১ অক্টোবর ভোরের মধ্যে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওয়াকফ এস্টেট ও জামে মসজিদের ভূমির উপর অবৈধভাবে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন এবং বালু ফেলে চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করে। বিষয়টি দেখে এস্টেটের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন গত ১২ অক্টোবর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
থানায় অভিযোগ দেওয়ার খবর পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে দখলদাররা। মঙ্গলবার দুপুরে জহিরুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন ওই অবৈধ ড্রেন ও রাস্তা পর্যবেক্ষণ করতে গেলে আসামিরা লাঠি, লোহার রড, পাইপ ও রামদা নিয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, প্রধান অভিযুক্ত আল মামুন সরকার হত্যার উদ্দেশ্যে জহিরুলের গলা চেপে ধরে। রামদা দিয়ে মাথায় কোপ দিলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে বাম হাতের হাড় ভেঙে যায়। পরে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে তার কাছে থাকা নির্মাণ সামগ্রী কেনার ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আলমগীর হোসেনকেও পিটিয়ে জখম করে ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্ত হেলাল। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন বলেন,"আমি দীর্ঘদিন ধরে এই ওয়াকফ এস্টেটের সেক্রেটারি হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছি এবং প্রতিবছর ট্যাক্স দিচ্ছি। হঠাৎ শুনি কে বা কারা ড্রেন ও রাস্তা করছে। থানায় অভিযোগ করার পর আজ পরিদর্শনে গেলে আমাদের উপর হামলা চালায়।"
আহত জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি ওয়াকফ এস্টেটের জয়েন্ট সেক্রেটারি। আমাকে দেখেই আল মামুন সরকার বলে 'তুই এখানে কেন?' বলেই গেঞ্জির কলার ধরে টেনে হেঁচড়ে রামদা দিয়ে কোপ দেয়। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা।"
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১নং পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জীব কুমার জানান, "আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বর্তমানে ভুক্তভোগী ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা প্রাণনাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।