বীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী মেলায় মানুষের ঢল
মোজাম্মেল হক : বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী মেলায় মানুষের ঢল নেমেছে। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পুনর্মিলন, আনন্দ ভাগাভাগি এবং নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য উদ্যাপনে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) উৎসবমুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ।
বিকেলে গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ মেলায় দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাঁওতালসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ অংশ নেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মেলা পরিণত হয় ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির মিলনমেলায়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ মেলাকে ‘বউ মেলা’ কিংবা ‘জীবনসঙ্গী খোঁজার মেলা’ হিসেবে প্রচার করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, এ ধরনের প্রচারের সঙ্গে মেলার প্রকৃত উদ্দেশ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি জীবনসঙ্গী নির্বাচন বা বিয়ের আয়োজন নয়; বরং পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে চলে আসা দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন অটুট রাখার আয়োজন।
আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিজয়া দশমীর পরদিন প্রতিবছর এ মেলার আয়োজন করা হয়। দূরে থাকা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির আহ্বায়ক যোশফ হেমরমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বিশ্বনাথ মুরমু ও আবেদুর রহমান মুকুল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আমিনুল বাহার, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু, নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান আনিস, মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিনুর রহমান চৌধুরী শাহিন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তানভীর চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব কামরুল হাসান, ভোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এবং বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মনোজ কুমার রায় ও সদস্য সচিব টিক্কা রাম রায়সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে এবং ৬ নং নিজপাড়া ও ১০নং মোহনপুর ইউনিয়নের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ মেলা স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে।