সাতক্ষীরার সুন্দরবনকে বনদস্যু মুক্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন
মোঃ খলিলুর রহমান, সাতক্ষীরা ::
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ বনদস্যুমুক্ত করা এবং বনে জেলে ও বাওয়ালিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার বেড়িবাঁধে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন হাজারো সাধারণ জেলে, বাওয়ালি ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধানতম অবলম্বন। এখানকার হাজার হাজার মানুষ বনে প্রবেশ করে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ এবং বিভিন্ন বনজ সম্পদ সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি সুন্দরবনে সক্রিয় হয়ে ওঠা বিভিন্ন বনদস্যু ও অপরাধ চক্রের অপতৎপরতা, নিয়মিত অপহরণ এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের আতঙ্কে এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনে গেলেও জেলে-বাওয়ালীরা প্রতিনিয়ত চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে সাতক্ষীরা রেঞ্জের অভয়ারণ্যে অবৈধভাবে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের অভিযোগে জেলে আটকের ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে সাধারণ পেশাজীবী মানুষ দস্যুদের জিম্মি দশার শিকার হচ্ছেন। বনদস্যুদের এই দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে উপকূলীয় অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে পড়বে।
তারা সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে বনদস্যুমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ও সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ইতঃপূর্বে অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার, মুক্তিপণ প্রথা চিরতরে বন্ধ এবং দস্যুদের পাকড়াও করতে প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়।
কামরুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালাউদ্দিন লিটন। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাস্টার আব্দুর রহিম, মাওলানা এছাহাক আলী, ইউপি সদস্য আবিয়ার রহমান, ইয়াসিন আরাফাত, সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফরিদা পারভীন ও আশিকুর রহমান প্রমুখ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী প্রান্তিক জেলে ও বাওয়ালীরা অনতিবিলম্বে সুন্দরবনে নিরাপদ যাতায়াত এবং নির্বিঘ্নে মাছ-কাঁকড়া আহরণের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানান। উপকূলীয় সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়বাসীর।