1. live@dainikbishwbangla.online : দৈনিক বিশ্ব বাংলা : দৈনিক বিশ্ব বাংলা
  2. info@www.dainikbishwbangla.online : দৈনিক বিশ্ব বাংলা :
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেটে বালুবাহি ট্রাকে মিলল ৪৯০ বোতল ফেন্সিডিল, গ্রেপ্তার ২ চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তার কাজ উদ্বোধন করলেন এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল বীরগঞ্জে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস উদযাপন চলতি মাসেই করোতোয়া নদীর খনন কাজ শুরু হচ্ছে ।। বগুড়ায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সিলেটের সুরাইঘাট সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযান ১৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ সিলেটের সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলি পাল্টা ফাঁকা গুলি বিজিবির তুরাগে রিক্সা ভ্যান অটোচালক দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন দেবিদ্বারে ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ বর্ণাঢ্য আয়োজনে সিএন বাংলার তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত লাখপুর শিমুলিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নদীর পেটে জনপদ, ভিটেমাটি হারানোর হাহাক ।

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে

নদীর পেটে জনপদ, ভিটেমাটি হারানোর হাহাকার

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে চিলমারী-রৌমারী-কোদালকাটির মানুষ, জিও ব্যাগ ও মহাপরিকল্পনার দাবি

মো :শাহরিয়ার
রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই বিলীন হচ্ছে নদীতীরবর্তী জনপদের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড। নদীর করালগ্রাসে চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি এলাকার বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে এসব এলাকার মানুষের।

নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ চিলমারী, রৌমারী ও কোদালকাটি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী মানুষ তাদের দুর্ভোগের কথা প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করে। নদীর তীব্র স্রোতে একের পর এক ফসলি জমি ও বসতভিটা বিলীন হচ্ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে জমি হারিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও বহু পরিবারকে বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে হবে। একই সঙ্গে শুধু সাময়িক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নয়, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন থেকে দীর্ঘমেয়াদে জনপদ রক্ষায় একটি কার্যকর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “নদী আমাদের শুধু জমি কেড়ে নিচ্ছে না, বাপ-দাদার ভিটাও কেড়ে নিচ্ছে। এই মাটির সঙ্গে আমাদের জীবন ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ভিটাটুকু হারালে আমাদের যাওয়ার জায়গা থাকবে না।”

স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছরই নতুন করে জমি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তাদের।

স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি নদীভাঙন মোকাবিলায় আরও মহাপরিকল্পনা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে সরকার বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীভাঙন থেকে মানুষের ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন ও আশ্বাসে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত জিও ব্যাগ স্থাপনসহ প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে জনপদ।

চিলমারী, রৌমারী ও কোদালকাটির মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—নদীভাঙনের কবল থেকে বাঁচুক তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বাপ-দাদার ভিটেমাটি।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট