
বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরামের কঠোর হুঁশিয়ারি–
অপ-সাংবাদিকতা বন্ধ করুন, সাংবাদিকতার সম্মান রক্ষা করুন: সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বস্তুনিষ্ঠ ও নীতিনৈতিক সাংবাদিকতা ফিরিয়ে আনতে এবং অপ-সাংবাদিকতার দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরাম। সংগঠনটির পক্ষ থেকে অনিবন্ধিত পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালের নামে যারা সাংবাদিকতার সম্মানিত পদকে অপব্যবহার করছেন তাদের অবিলম্বে সঠিক পথে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অপ-সাংবাদিকতা বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সাংবাদিকতার নীতি ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন।
সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন বলেন,
সাংবাদিকতা কোনো চাঁদাবাজি বা ব্ল্যাকমেইলের পেশা নয়। এটি জাতির বিবেক। কিন্তু আজ কিছু অনিবন্ধিত পত্রিকা, ভুয়া ওয়েব পোর্টাল এবং ভুয়া প্রেস আইডি ব্যবহার করে এক শ্রেণির মানুষ সাংবাদিক নামধারী হয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে। তারা হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও সরকারি অফিসে গিয়ে হয়রানি করছে। এতে প্রকৃত সাংবাদিকরাও জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি আরও বলেন,- যারা প্রকৃত অর্থে সাংবাদিকতা করতে চান, তাদের স্বাগত জানাই। কিন্তু সাংবাদিকতার সম্মানিত পদকে ব্যবহার করে যদি কেউ অপকর্ম করে, বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরাম তা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।
ফোরামের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি ও আহ্বান তুলে ধরা হয়:
১/ অপ-সাংবাদিকতা অবিলম্বে বন্ধ: চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি দেখানো, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
২/ অনিবন্ধিত পত্রিকা ও পোর্টাল বন্ধ: তথ্য মন্ত্রণালয় ও প্রেস কাউন্সিলের নিবন্ধন ছাড়া কোনো পত্রিকা বা নিউজ পোর্টাল পরিচালনা করা যাবে না। অবৈধ পত্রিকার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
৩/ প্রেস আইডি ও স্বীকৃতির নীতিমালা কঠোর করা: কে সাংবাদিক এবং কে নয়, তা নির্ধারণে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান।
৪/ প্রকৃত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত মান উন্নয়ন: হয়রানির শিকার প্রকৃত সাংবাদিকদের আইনি সহায়তা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ।
৫/ সচেতনতা বৃদ্ধি: জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অপ-সাংবাদিকতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে ফোরামের উদ্যোগে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়।
অন্যান্য বক্তারা যা বলেন
সাধারণ সম্পাদক বলেন- আমরা চাই না কেউ পেশা হারাক। তবে সাংবাদিকতার নামে যারা দুর্নীতি করবে তাদের চিহ্নিত করে বয়কট করা হবে।
জেলা প্রতিনিধিরা জানান, অনেক এলাকায় অনিবন্ধিত পত্রিকার নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ বাড়ছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শেষে হুঁশিয়ারি
সংবাদ সম্মেলনের শেষে সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন স্পষ্টভাবে বলেন,-
আমরা সংলাপে বিশ্বাসী। তাই প্রথমে আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু এরপরও যদি কেউ অপ-সাংবাদিকতা চালিয়ে যায়, তবে বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরাম সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি আমাদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি।
সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক ও লেখক উপস্থিত ছিলেন।