
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল অপ্রতিম, একদিন পর মিলল লাশ
আমজাদ হোসেন //
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয়েছিল ১৩ বছরের স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার। নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় একটি ঝোপ-জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে তার মরদেহ। মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার সময় তার পরনে ছিল পাঞ্জাবি।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, এরপর রাত হলেও অপ্রতিম বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের ছবি প্রকাশ করে তাকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা চান মা ড. নাহিদা বেগম।
নিখোঁজের পর পুলিশ অপ্রতিমের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্তের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধান চালায়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন সালমানপুর এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশে, লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের একটি ঝোপ-জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে স্থানটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশের জঙ্গল বা ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ কিছু ক্লু পেয়েছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে হেফাজতে রাখা হয়েছে; তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সদর দক্ষিণ থানার ওসি রকিবুল ইসলামও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও এখনো পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন প্রাথমিক ধারণা প্রকাশ করেছেন কুবির কয়েকজন শিক্ষক; তবে পুলিশ এখনো হত্যার কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে অপ্রতিমের পরিবার। নিখোঁজ হওয়ার পর ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকুতি জানিয়েছিলেন তার মা ড. নাহিদা বেগম। পরে সেই সন্তানকে জীবিত নয়, মরদেহ হিসেবে ফিরে পেতে হলো পরিবারকে।
অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল এবং কারা জড়িত—তদন্তের মাধ্যমে তা বের করার চেষ্টা চলছে।