
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের মেধাবী শিক্ষার্থী হেলালের সব কাগজপত্র জমা দিয়েও মিললো না যোগদানের চিঠি
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার।
ভেঙে পড়েছেন মেধাবী হেলাল ও তার পরিবার
ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হওয়ার। সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে জীবনের প্রতিটি ধাপে লড়াই করেছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের স্বস্তিপুর গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী হেলাল বিশ্বাস।
অভাব-অনটনের সঙ্গে যুদ্ধ করেই চালিয়ে গেছেন লেখাপড়া। নিজের পড়াশোনার খরচ তো বটেই,টিউশনি করে পরিবারের খরচও বহন করেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি স্কুলে শিক্ষকতাও করতেন তিনি। কারণ, শিক্ষকতা ছিল শুধু তার পেশার স্বপ্ন নয়—এটি ছিল তার জীবনের দীর্ঘদিনের একটি লক্ষ্য।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার আশায় অন্য একটি সরকারি চাকরিও ছেড়ে দিয়েছিলেন হেলাল। সবকিছু ঠিকঠাকভাবেই এগোচ্ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি অপেক্ষায় ছিলেন কাঙ্ক্ষিত যোগদানের চিঠির জন্য।
কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ এখনো হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও হেলাল বিশ্বাসের হাতে আসেনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের চিঠি। অথচ তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
হঠাৎ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে হেলাল ও তার পরিবার অনেকটাই ভেঙে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের কষ্ট, পরিশ্রম আর ত্যাগের পর যখন স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছিলেন,তখন কেন তার যোগদানের চিঠি এলো ন এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তিনি ও তার পরিবার।
কী কারণে হেলালের যোগদান আটকে গেল? প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কেন তিনি পেলেন না যোগদানের চিঠি?
এসব প্রশ্নের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চান হেলাল ও তার পরিবার। দীর্ঘ সংগ্রামের পর পাওয়া সুযোগটি যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে হাতছাড়া না হয় এটাই এখন তাদের প্রত্যাশা।
ঘটনার সঠিক কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন হেলালের পরিবার।