
কুষ্টিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস ও লালন মেলা
বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে লালন স্মরণোৎসব ও ঐতিহ্যবাহী লালন মেলা। বাউলসম্রাট লালন শাহের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবতাবাদী দর্শন এবং সাম্যের বাণীকে স্মরণ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লালনভক্ত, সাধু-গুরু, বাউলশিল্পী ও দর্শনার্থীরা সমবেত হচ্ছেন।
কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত লালন আখড়াবাড়িকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর এ আয়োজন বাঙালির লোকসংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়। লালনভক্তদের কাছে এই দিনটি শুধু স্মরণ করার উপলক্ষ নয়, বরং তাঁর জীবনদর্শন, মানবপ্রেম এবং অসাম্প্রদায়িক ভাবধারাকে নতুন করে উপলব্ধি করারও সময়।
লালন শাহ তাঁর গান ও দর্শনের মাধ্যমে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর কালজয়ী গান আজও মানুষের হৃদয়ে মানবতা, প্রেম, আত্মঅনুসন্ধান ও সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
লালন মেলাকে ঘিরে বাউলগান, সাধুসঙ্গ এবং লোকজ সংস্কৃতির নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুখর হয়ে ওঠে ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ি এলাকা। দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছেও লালন মেলা বাংলার সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
লালন শাহের অমর দর্শন ও সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁর মানবতাবাদী চেতনাকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
লালনের বাণী হোক মানবতার পথচলার প্রেরণা, তাঁর দর্শনে জাগ্রত হোক সাম্য, সম্প্রীতি ও মানুষে মানুষে ভালোবাসা।