
রাজিবপুরে আমনের বাম্পার ফলন, সবুজে হাসছে কৃষকের মুখ
মো: শাহরিয়ার,
রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
৪ নভেম্বর ২০২৬
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বড় ধরনের বন্যা না হওয়ায় কয়েক বছরের তুলনায় বেড়েছে রোপা আমনের আবাদ। তিনটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল থেকে নিচু জমি—সবখানেই এখন সবুজ ধানখেতের সমারোহ। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম থাকায় ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এবার বন্যার পানি না থাকায় অনেক নিচু জমিও চাষের আওতায় এসেছে। যেসব জমি বিগত বছরগুলোতে পানির কারণে পতিত থাকত, সেসব জমিতেও এবার আমন ধান রোপণ করেছেন কৃষকরা। অধিকাংশ জমিতে ধানের গাছ বেশ সতেজ হয়ে উঠেছে।
তবে মৌসুমের শুরুতে সার নিয়ে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল কৃষকদের। স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সার সময়মতো না পেয়ে অনেককে অন্য জেলা থেকে বাড়তি দামে সার সংগ্রহ করতে হয়েছে। কৃষকদের দাবি, সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত সার পেলে ফলন আরও ভালো হতো। বর্তমানে অবশ্য সারসংকট নেই।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভালো ফলনের আশায় প্রতি শতাংশ জমিতে ইউরিয়া ও টিএসপি কিংবা ডিএপি সার মিলিয়ে প্রায় ২ দশমিক ২৫ থেকে ২ দশমিক ৫০ কেজি পর্যন্ত ব্যবহার করেছেন অনেকে। প্রতি একর জমিতে আমন ধান উৎপাদনে তাঁদের খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা। এত বিনিয়োগের পর উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁদের।
কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মী আনোয়ার, জহুরুল ও নজরুল জানান, অনেক কৃষক জমিতে গোবর বা কম্পোস্ট সার ব্যবহার করেন না। ফলে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এ ছাড়া কৃষি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সুষম সার ব্যবহারের বিষয়েও কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আল জুবায়ের বলেন, সারা দেশের মতো চরাঞ্চলেও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। মাঠকর্মীরা সরাসরি কৃষকদের জমিতে গিয়ে উন্নত ফসল উৎপাদন ও সঠিক পদ্ধতিতে সার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনিও নিয়মিত মাঠপর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
তিনি জানান, চর রাজিবপুর উপজেলায় ২ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে এবার বন্যা না হওয়ায় কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার বাইরেও অধিক পরিমাণ নিচু জমিতে আমন আবাদ করেছেন। সরেজমিনে ধানখেতের অবস্থা অত্যন্ত ভালো দেখা যাচ্ছে। ফলনের সম্ভাবনাও আশাব্যঞ্জক।
সব মিলিয়ে এবার চর রাজিবপুরে আমন ধানের মাঠজুড়ে বাম্পার ফলনের হাতছানি।প্রকৃতির অনুকূল পরিবেশে কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে রয়েছে দুশ্চিন্তা। কৃষকদের প্রত্যাশা, মাঠের সবুজ ধান সোনালি ফসলে রূপ নেওয়ার পাশাপাশি বাজারেও তাঁরা পাবেন ন্যায্য দাম।