
লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ বদলগাছী উপজেলাবাসী, কর্তৃপক্ষ বলছে এটি এখন জাতীয় সমস্যা
মোঃ সারোয়ার হোসেন অপু
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
জানা যায়, দিনে-রাতে মিলে প্রায় ৬-৭ বার লোডশেডিং হয়। বিশেষ করে গ্রামের অঞ্চলগুলোতে লোডশেডিং বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ২ ঘন্টা পরপর কারেন্ট চলে যায়, এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যঘাত আনছে এবং জনসাধারণের জীবন যাপনে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলছে।
বদলগাছীর একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান,”সারাদিন কাজকর্ম শেষে রাতে ঘুমানোর সময় বা মাঝরাতে কারেন্ট চলে যায়, খুব বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।”
ব্যবসায়িক মহলে কথা বললে তারা জানান, বর্তমানে ঘন লোডশেডিং এর কারনে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্রেতা আসে বিদ্যুৎ নেই দেখে আর অতিরিক্ত গরম দেখে তারা পণ্য না নিয়ে চলে যায়।
রবিউল অনলাইন কম্পিউটার সেন্টার এর পরিচালক ও বদলগাছী উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মোঃ রবিউল আউয়াল জানান, দিনে রাতে লোডশেডিং এর মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দূর থেকে আসা ভূমি সেবা গ্রহনকারীরা সুস্থভাবে তাদের ভূমিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে জনজীবনে নামবে চরম বিপর্জয়।
তবে জাতীয় তথ্য বলছে অন্য কথা,
বর্তমানে তীব্র প্রখর দাবদাহ ও গরমের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার ও চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি বা গ্যাসের ঘাটতি এবং সঞ্চালন লাইনের জটিলতার কারণে চাহিদানুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ফ্যান, এসি ও সেচপাম্প একযোগে চলার ফলে জাতীয় গ্রিডে তৈরি হওয়া এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করতেই কর্তৃপক্ষ এলাকাভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ বা লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে।
বদলগাছীর পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী রজ্ঞন কুমার সরকার জানান, ” লোডশেডিং তো এখন বলতে গেলে একটি জাতীয় সমস্যা বলা যায়, সব জায়গাতে প্রায় একই অবস্থা। তবে বর্তমানে ঝড়-বৃষ্টির কারণে কোন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের সমস্যা হলে, আমাদের তথ্য দিলে আমরা সাথেসাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। “