
সোনালী আঁশে ফিরছে সুদিন: রাজিবপুরে বাম্পার পাট ফলনে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে
মো. শাহরিয়ার হাসান
রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এক সময় দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল পাট—যাকে বলা হয় ‘সোনালী আঁশ’। পরিবেশবান্ধব এই অর্থকরী ফসলের চাহিদা দেশ-বিদেশে আবারও বাড়তে শুরু করায় নতুন আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকরা। সেই ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী রাজিবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে বাম্পার পাট ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিগত কয়েক বছরে রাজিবপুর উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৬৫৫ থেকে ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। চলতি ২০২৫ সালের খরিফ মৌসুমেও প্রায় একই পরিমাণ জমিতে তোষা ও দেশি জাতের পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং কৃষকদের পরিচর্যার কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আশানুরূপ ফলন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌফিক আল জুবায়ের বলেন, “এ বছর রাজিবপুর উপজেলায় ব্যাপক পরিমাণে তোষা ও দেশি জাতের পাটের চাষ হয়েছে। ফলনও অত্যন্ত ভালো হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের বড়বের, মধ্যেচর, শিকারপুর, ভেলামারি, কাদেরচর ও কোদালকাটি এলাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ায় আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা করছি।”
চরাঞ্চলের একাধিক কৃষক জানান, গত দুই বছরের মতো এবারও পাটের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। বাজারে পাটের দামও ভালো থাকায় উৎপাদন খরচ মিটিয়ে লাভের মুখ দেখছেন তারা। ফলে অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট চাষে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, পাট শুধু একটি অর্থকরী ফসল নয়; এটি তাদের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। ন্যায্যমূল্য বজায় থাকলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট আবাদ করবেন বলে জানান তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারিত হওয়ায় বাংলাদেশের সোনালী আঁশ আবারও বিশ্ববাজারে সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলছে। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ খাত।